এদিকে দুই মাসে নিষেধাজ্ঞায় এরই মধ্যে সকল জেলেরা নদী থেকে তুলে নিয়েছেন তাদের জাল সাভার। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়টিতে বেকার জীবন যাপনে তাদের কপালে যেন দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাজ। যদিও এই সময়ের জন্য জেলে পুর্ণবাসনের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও সে চাল সটিক সময়ে সবার ভাগ্যে জুটেনা। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়কালে জেলেদের মাঝে পুনর্বাসনের চাল পাওয়ার পাশাপাশি এনজিও কিস্তি বন্ধ রাখার দাবী জেলেদের।
জেলেরা জানান, গত মৌসুমে পুরো সময় জুড়ে ইলিশ সংকট থাকায় এ বছরের শুরুটা ভালো যায়নি ভোলার জেলেদের। নদীতে ইলিশ শূন্যতায় বার বার আর্থিকভাবে ধাক্কা খেতে হয়েছে তাদের। এমন সংকটের মধ্যে আবার চলে আসছে ইলিশ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। এতে কর্মহীন হয়ে চরম অভাব অনাটনে পড়েছেন জেলেরা।
জেলে আঃ রহিম, ইলিয়াস ও মাইনুদ্দিন জানান, ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা মানতে গেলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। কারন, জেলে পেশা এবং মাছ ধরার উপর আমাদের জীবিকা। কিভাবে নিষেধাজ্ঞা সময় কাটাবো সে চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
এদিকে, জেলেদের অনেকেই এনজিও থেকে ঋন আর ধারদেনা করে জাল নৌকা গড়েছেন তবে নিষেধাজ্ঞাকালিন সময় জেলে পুর্নবাসনের জন্য চাল বরাদ্দ হলে সে চাল পৌছায়না অনেকে ভাগ্যে। তাই এনজিও কিস্তি পরিষোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তারা। এমন বাস্তবতায় কিস্তি বন্ধ রাখার পাশাপাশি দ্রুত পুর্ণ বাসনের চাল বিতরণের দাবী তাদের।
জেলে মাইনুদ্দিন ও সবুজ বলেন, দুই মাসের জন্য কিস্তি তোলা বন্ধ রাখা হলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো, সরকারের কাছে জেলেদের কথা বিবেচনা করা হয় এবং দ্রুত বরাদ্দকৃত চাল বিতরণ করা হয়।
মৎস্য আড়ৎদার সাহাবুদ্দিন বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার খবরে জেলে পাড়ায় তৈরী হয়েছে সংকট। শুধু জেলে নয়, একই অবস্থা মাছ ব্যবসায়ী ও আড়ৎদারদের।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা বান্তবায়নে ভোলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সভা করেছে মৎস্যবিভাগ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা সময়ে এনজিও বিস্তি বন্ধ রাখার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, ভোলায় নিবন্ধনকৃত জেলে রয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার। এর বাহিরেও অনিবন্ধিত জেলের প্রায় দুই লাখের মতো।
এইচ এম জাকির
ভোলা
তাং-২৭-২-২৬