মোঃ ওমর ফারুকঃ ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (WZPDCL) প্রকল্পের আওতায় সাবমেরিন কেবল ও ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। শক্তি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং WZPDCL-এর “মনপুরা দ্বীপপুঞ্জে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (MIUEPDS)” প্রকল্পের আওতায় এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী টার্নকি ভিত্তিতে ৩৩ কেভি সাবমেরিন কেবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও কমিশনিং সহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পে প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রান সহ মোট ২৮ কিলোমিটার ১সি. ৩০০ বর্গমিলিমিটার সাবমেরিন কেবল স্থাপন করা হবে। এর সঙ্গে ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণের কাজও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দরপত্রটি “ওয়ান স্টেজ টু এনভেলপ টেন্ডারিং মেথড (OSTETM)” পদ্ধতিতে আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়ন হবে ওজোপাডিকোর নিজস্ব তহবিল থেকে। টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শর্ত থাকে আগ্রহী ঠিকাদারগন গত ১০ বছরের মধ্যে কমপক্ষে দুটি অনুরূপ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসব প্রকল্পে ৩৩ কেভি বা তার বেশি ক্ষমতার সাবমেরিন কেবল স্থাপন, পরীক্ষণ ও চালুকরণের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে অন্তত একটি প্রকল্প বিদেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশের অনুরূপ ক্রান্তীয় জলবায়ু অঞ্চলে বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এছাড়া দরদাতাকে সাবমেরিন কেবল স্থাপনে ব্যবহৃত জাহাজের মডেল, ধরন ও সক্ষমতার প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মনপুরার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মনপুরা দ্বীপ বাসী উন্নত ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভোলা ওয়েস্টার্ন জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, অন্য একটি কোম্পানী এই প্রকল্পের কাজটি করবে। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় ভোলার তজুমদ্দিন থেকে চর জহিরুদ্দিন, চর মোজাম্মেল, চর কলাতলী হয়ে মনপুরায় যাবে। এতে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ দিতে পারবে। তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরে চরফ্যাশন থেকে মনপুরা পর্যন্ত সরাসরি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে স্থায়ী ভাবে সাব-স্টেশন স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে ৪/৫ বছর সময় লাগতে পারে।