
মনপুরা প্রতিনিধিঃ ভোলার মনপুরায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে খালেক বাহিনীর ক্যাডারদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন আব্দুর রহমান সোয়েব ও মোহাম্মদ মেহেদী হাসান নামে দুই সাংবাদিক। শনিবার দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার ৫নং চর কলাতলী ইউনিয়নে ভূমি দস্যু ও সন্ত্রাসী খালেকের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা সাংবাদিকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকরা জানান, মো. খালেক, হানিফ ও শাহেদসহ কয়েকজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিপুল পরিমাণ জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। প্রায় ১ হাজার ১৭০ একর জমি দখলে নিয়ে ওই জমিতে উৎপাদিত ঘাস স্থানীয় মহিষপালকদের কাছে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জমির প্রকৃত মালিকরা নিজেদের জমিতে যেতে পারছেন না। এমনকি অনেকে জমিতে চাষাবাদ কিংবা নিজেদের গবাদিপশু চরাতেও পারছেন না। জমির দখল নিয়ে বিরোধের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় ভুক্তভোগী রাজবি বলেন, গত বছর থেকে এখন পর্যন্ত আমি আমার জমি ভোগদখল করতে পারছিনা। খালেক আমার জমি দখল করে ঘাস বিক্রি করে ফেলেছেন। এখন আমরা জমিতে চাষ করতে পারি না। আমাদের জমি থেকে ঘাস বিক্রি করা হলেও আমাদের কোনো টাকা দেওয়া হয়নি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, তিনিও নিজের জমি ভোগ করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, “সবার কাছে শুনি নেতারা নাকি আমাদের জমির ঘাস বিক্রি করে ফেলেছে। এখন আমরা চাষও করতে পারি না, আবার আমাদের জমিতে গরু-ছাগলও পালন করতে পারি না। জমির কাছে গেলে মহিষের মালিকরা আমাদের গালমন্দ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়াই জমিতে থাকা ঘাস কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে জমির মালিকরা তাদের জমির নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন, অন্যদিকে জমি থেকে পাওয়া অর্থও তারা পাচ্ছেন না।
এদিকে জমি দখল ও ঘাস বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক আব্দুর রহমান সোয়েব ও মোহাম্মদ মেহেদী হাসান স্থানীয়দের অভিযোগ ও জমি দখলের বিষয় নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে খালেক বাহিনীর প্রধান মো. খালেকের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
মনপুরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সহ স্থানীয়রা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর প্রশ্ন তোলে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
তারা বলেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো অভিযোগ বা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা ভয়ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক সেলিম মোল্লা বলেন, অপরাধী কোনো দলের হতে পারে না। অভিযুক্ত খালেক আমাদের দলের নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের অপরাধ করার কোনো সুযোগ নেই। আমরাও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি দখল, হয়রানি কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তার দায় দল নেবে না।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেসব জমি থেকে অনুমতি ছাড়া ঘাস কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে, সেসব জমির মালিকানা, দখল এবং ঘাস বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
যদিও বিষয়টি নিয়ে হামলাকারীদের সাথে কথা বলতে তাদের মুঠোফোনে একা দেখবার ফোন করো কোনভাবেই তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে এমন একটি খবর শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত ঘটনায় তারা কোন ধরনের লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে জানান মনপুরার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাযহারুল ইসলাম। এ ঘটনা লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিপুল পরিমাণ জমি দখল ও ঘাস বিক্রির বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সাংবাদিক সমাজ।