সকাল ১১টায় ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভোলা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান (বাচ্চু মোল্লা) এসব কথা বলেন।
তার দাবি, বিআরটিএর নীতিমালা ও সড়ক পরিবহন আইনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়কে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ভোলা জেলা বাস মালিক সমিতি ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির অন্তর্ভুক্ত। সরকার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু ভোলার ইলিশা–দক্ষিণ আইচা সড়কে সিএনজি অটোরিকশার অবাধ চলাচল সেই উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানান, ইলিশা থেকে দক্ষিণ আইচা পর্যন্ত প্রায় ১০৯ কিলোমিটার সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করছে। অথচ বিআরটিএর অনুমোদন অনুযায়ী এসব যানবাহন স্থানীয় পর্যায়ের নির্দিষ্ট রুটে চলাচলের জন্য নিবন্ধিত। মহাসড়কে চলাচলের অনুমতি তাদের নেই বলেও দাবি করা হয়।
এসময় তিনি আরো অভিযোগ করেন, আইন অনুযায়ী চালকসহ সর্বোচ্চ চারজন যাত্রী বহনের কথা থাকলেও অনেক সিএনজি অটোরিকশা চালক পাঁচজন যাত্রী বহন করছেন। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, গত বছরের ৩৬তম বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইলিশা থেকে পরানগঞ্জ পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নিবন্ধিত সিএনজিগুলোকে নির্ধারিত রুটে চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও বিআরটিএর নীতিমালা অনুযায়ী মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজি চলাচল না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিআরটিএর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি। সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী ফল দেয়নি।
বাস মালিক সমিতির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাসড়কে সিএনজি চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় সংগঠনটি নেবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। পাশাপাশি বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাস মালিক সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।