এদিকে ঘটনার পরপরই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মেয়েসহ ৩ নারী কর্মী আহত হয়েছেন এমনটি দাবি করে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এমনকি ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী কামাল উদ্দিনের মেয়ে মারিয়া কামাল চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার দুই ভাই ফয়সাল আহমেদ ও তাহজিবসহ ৭/৮ জন নারী কর্মীকে নিয়ে সকালে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে তার বাবার হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এ সময় জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মোস্তফা কামালের কর্মী সোহেল ও আলাউদ্দিন তাদের প্রচারণায় বাঁধা দিয়ে তাদেরকে এলাকা ছেড়ে যেতে বলে। এনিয়ে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা দলবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে। এমনকি আহত অবস্থায় তাদের স্বজন ও স্থানীয়রা তাদেরকে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা শেষে তাদেরকে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এ ঘটনা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কামাল উদ্দিন জানান, জামায়াত ইসলামীর কর্মীরা তাদের নারী কর্মীসহ অন্যান্য কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে বিভিন্নভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা বানচাল করতে চেয়েছে। তারা নির্বাচনী সুস্ঠু পরিবেশকে বিনষ্ট করতে বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াতের ইসলামীর পক্ষ থেকে বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, তাদের এক কর্মী মসজিদের ইমাম হাফেজ আলাউদ্দিনকে (৪৫) তুচ্ছ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন কর্মীরা এলোপাতাড়ি বুকে পিঠে মারধর করে উল্টো জামায়াতের বিরুদ্ধে অপ্রচার চালাচ্ছেন।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে চরফ্যাশন উপজেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক রেজাউল হাসান এমরান সাক্ষরিত প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করেন,
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কর্মী তাহজিদ (১৭) ও মো. ফয়সল আহমেদ এলাকায় প্রচার কার্যক্রম চালানোর সময় তাদের পীর সাহেব সম্পর্কে স্হানীয় এক ব্যক্তি কটূক্তিমূলক মন্তব্য করলে এলাকাবাসীর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
এ সময় ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হাফেজ আলাউদ্দিন। তিনি ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করলে ইসলামী আন্দোলনের কয়েকজন কর্মী ক্ষিপ্ত হয়ে তার মোবাইল ফোন ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তিনি এর প্রতিবাদ জানালে তাকে ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করা হয়।আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
অথচ ইসলামী আন্দোলন কর্মীরা হাফেজ আলাউদ্দিনের হামলার ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেন, তাদের প্রার্থীর মেয়েকে নাকি হাফেজ আলাউদ্দিন হেন্স্হা করেছে। স্ব পক্ষে হামলার কোন ভিডিও প্রমানও তারা দেখাতে পারেনি। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
যদিও ঘটনাটিকে যেভাবে ফলো করে প্রকাশ করেছে এমন কোন ঘটনাই সেখানে ঘটেনি দাবি করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মোঃ জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যদিও এই ঘটনার পর পরই নিজেদের মধ্যে আবার সমঝোতার মাধ্যমে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটেছে।
তবে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে হাতাতির মতো ছোটখাটো একটি ঘটনা ঘটেছে এমনটি দাবি করে চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, বিষয়টি তার নখদর্পনে এলেও এ ঘটনা এখন পর্যন্ত থানায় কোন ধরনের অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।