অপরাধ, আইন-আদালত

ভোলায় বালিশচাপা দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, আটক স্বামী

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ২:৪৫ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোলার লালমোহনে পারিবারিক কলহের জেরে মোসা. রুনা বেগম নামে এক গৃহবধূকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জিহাদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গণেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত রুনা ওই এলাকার হাফিজুর রহমানের মেয়ে।
যদিও ঘটনার পরপরই রুনার স্বামী জিহাদ পালিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে তাকে আটক করেন র‌্যাব ও পুলিশ। আটক জিহাদ ওই ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুনা ও জিহাদ সম্পর্কে দুজন মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন। গত ৭ মাস আগে পারিবারিকভাবেই তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে চলে আসছে নানা রকমের কলহ।
বিষয়টি পারিবারিকভাবে একাধিকবার মীমাংসা করা হলেও কোনভাবেই তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পারেননি কেউ। প্রায় সময় স্বামী জিহাদ স্ত্রী রুনার উপর চালায় পাশবিক নির্যাতন। ঘটনার দিন বুধবারও রুনার মা সালিসের উদ্দেশ্যে জিহাদের বাড়িতে যান। সে সময় রুনা তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং জিহাদও তার নিজ বাড়িতে ছিলেন। সালিসের পরপরই জিহাদ রুনার বাড়িতে যান।এ সময় রুনার মা জিহাদের বাড়িতে ছিলেন এবং বাবা ঘরের বাইরে ছিলেন।
রুনার চাচি নূর জাহান বেগম বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যার দিকে রুনার ঘর থেকে শব্দ পেয়ে তিনি সেখানে যান। এরপর ঘরে ঢুকে দেখেন বিছানায় পড়ে রয়েছে রুনা। তার শরীর কম্বল দিয়ে ঢাকা ছিলো এবং বুকের ওপর একটি বালিশ রাখা ছিলো। এরপর তাকে ডাকাডাকি করে তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কম্বল সরিয়ে দেখতে পাই রুনার গলায় নখের আঁচড়ের দাগ এবং বিছানা প্রস্রাবে ভিজে রয়েছে।
তার মুখে লালা এবং রক্ত ছিলো। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে খবর দিলে তিনি এসে রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনা স্থলের ছুটে যান লালমোহন থানা পুলিশ। তারা মৃত রুনার মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান থানায়।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তার স্বামী জিহাদ পলাতক থাকায় তাকে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে তাকে আটক করা হয়।
তিনি আরো বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী রুনা বেগমকে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন বলে স্বীকার করেছেন জিহাদ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান তিনি।