নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাত্র ৬শ টাকার জন্য ক্রিকেটের স্ট্যাম্পের আঘাতে প্রাণ দিতে হলো বন্ধু শাকিল (৩০)কে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আড়ালিয়া গ্রামে। মৃত শাকিল ওই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইউনুস মিস্ত্রির ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানার সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন যাবত শাকিল এর কাছ ৬ শত টাকা পায় একই গ্রামের বাসিন্দা নূরনবী পণ্ডিত এর ছেলে তামিম। প্রায় সময় টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে বাধে ছোটখাটো ঝগড়া। একইভাবে গতকাল শনিবার বিকেলের দিকে তাদের বাড়ির কাছেই একটি খেলার মাঠে শাকিল এবং তামিম সহ বন্ধুরা ক্রিকেট খেলছিলো। খেলা শেষে শাকিল এর কাছ থেকে তামিম তার পাওনা টাকা চাইতেই বাঁধে বাকবিতান্ড। যদিও তাদেরই সহপাঠীরা বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে থামিয়ে দিয়ে সকলে একসাথে মাঠ ত্যাগ করে।
এরপর পাশের একটি দোকানের সামনে চা খেতে বসলে ওই ঘটনা রেস ধরে তামিমের হাতে থাকা ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প দিয়ে শাকিল এর মাথায় সজোরে আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে শাকিল মাটিতে লুটে পড়ে। তার সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করলেও মুহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার নিউরোসাইন্স হাসপাতালে। রাতভর চেষ্টা করেও কোনভাবে তার অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেননি চিকিৎসকরা। অবশেষে রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর পাঁচটার দিকে শাকিল চলে যায় না ফেরার দেশে। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা থেকে ভোলায় আনার পথে রয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরপরই তজুমদ্দিন থানায় তামিমকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে তজুমদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সুশান্ত মলো বলেন, সামান্য ৬০০ টাকার জন্যই এ ধরনের একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যাবে তা হয়তোবা কেউই কামনা করেনি। যদি এই ঘটনায় মৃত শাকিল এর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।