
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে তীব্র নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে বহু মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের দিয়ার শংকরপুর, সনওসারা, সুলতানপুর ও পলাশী ফতেপুর এলাকা তলিয়ে গেছে। বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। গৃহহীন ও পানিবন্দী এসব পরিবারের মানুষ এখন নৌকা ও ছোট ডিঙিকে প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করে চরম কষ্টে যাতায়াত করছেন।
শুধু পানিবন্দী জীবনই নয়, লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় বর্তমানে বিষাক্ত সাপের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চরাঞ্চল ও প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা। ঘরবাড়ি ও গাছের উঁচুটাইপ স্থানে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর। এছাড়া গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয় এবং তীব্র গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী জানান, পানি বৃদ্ধির গতি এতই দ্রুত ছিল যে অনেকে প্রয়োজনীয় মালামাল ও গবাদিপশু নিরাপদে সরানোর সময় পাননি। জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার তৎপরতা, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং সাপের কামড় প্রতিরোধে কার্বলিক অ্যাসিড ও অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য প্রশাসনের আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।