
মোঃ আইয়ুব আলী, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আখের বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। তবে ঠিক এই সময়েই ক্ষেতে পোকার আক্রমণের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় সার্বিক ফলন নিয়ে কৃষকদের মনে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন আখক্ষেত ঘুরে ও চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার অধিকাংশ জমিতেই আখের অবস্থা বেশ ভালো। মানিকহার গ্রামের আখ চাষী মান্নান ও পালিদহ গ্রামের কালাম জানান, ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা দেখে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। বরমহাটি গ্রামের আখ চাষী আলম মেম্বারও একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষকদের এই ইতিবাচক মনোভাবের পেছনে মূল কারণ আখের বাজারমূল্য বৃদ্ধি। পূর্বে প্রতি মণ আখের নির্ধারিত দাম ২৪০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় এলাকার কৃষকেরা আগের চেয়ে অনেক বেশি আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।তবে ভালো ফলনের আনন্দের মাঝেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষতিকর পোকা।
বরমহাটি গ্রামের আখচাষী হাসমত আলী (তিনি এবার ৬ বিঘা জমিতে আখের আবাদ করেছেন) জানান, বর্তমানে আখক্ষেতে ‘ট্যাম্বোরাস’ নামের এক ধরনের পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এই পোকাটি আখের ভেতরের রস ও মিষ্টি অংশ খেয়ে ফেলে, যা ফলনে বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষি বিভাগ বা সুগার মিল থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চাষিরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আখ চাষের সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে গোপালপুরস্থ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৮ হাজার একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল।
তবে অর্জিত হয়েছে ১৮ হাজার ৭ একর। বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার কৃষককে এই আখ চাষের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমরা চাষিদের সমস্যা সম্পর্কে সচেতন। মিল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের সাথে মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং যে কোনো পোকা দমন ও অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।