শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রামপালের কয়লা দরপত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ লালপুরে জিপি টাওয়ারের চোরাই তামার তারসহ এক যুবক আটক বাংলা এমন একটি বিভাগ, যেখানে তোমরা মরে গিয়েও বেঁচে থাকতে পারবে’ : অধ্যাপক সাদেক নাটোরের লালপুরে আখের ভালো ফলন হলেও পোকামাকড়ের আক্রমণে চাষীদের বাড়ছে দুশ্চিন্তা​ মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগ ভোলার গরিবের দুবাইয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ দুই বন্ধুর মধ্যে রাকিবের মরদেহ পাওয়া গেছে নোয়াখালীর রামগতি চরে Cómo empezar bien con casinos online seguros chile — errores habituales গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় হাইকোর্টের রায়, দিতে হবে প্রায় ৬৬৬ কোটি বিশেষ ছাড়ে গাড়ি-মোটরসাইকেল কেনাবেচার সুযোগ ‘সুপার সেল কার বাজারে’ বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে সরকার, প্রশ্ন উঠেছে আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে

রামপালের কয়লা দরপত্রে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

  • প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৮০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল)–এর চিফ প্রকিউরমেন্ট অফিসার এস এম জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, দরপত্রের শর্ত প্রয়োগে অসম আচরণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।

রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিপুল পরিমাণ কয়লা আমদানির এই দরপত্র ঘিরে শিল্পসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সব অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে একই মানদণ্ডে বিবেচনা করা হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

সূত্রগুলোর অভিযোগ, দরপত্র মূল্যায়নে লিয়্যানেক্স, মোহিত মিনারেলস ও লোশে শিপিংয়ের মতো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়লা সরবরাহের অভিজ্ঞতা, কারিগরি সক্ষমতা এবং দরপত্রের শর্ত পূরণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের একজনের দাবি, সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান লিয়্যানেক্স প্রয়োজনীয় কারিগরি নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবে ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দরপত্রের ক্ষেত্রে ‘মাইন এমওইউ’ বা কয়লার উৎসসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও নথিপত্রের যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দরদাতাদের দেওয়া এসব নথির সত্যতা সংশ্লিষ্ট খনি মালিক বা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার যেসব খনি থেকে কয়লা সরবরাহের কথা বলা হচ্ছে, সেসব খনির প্রকৃত মালিকানা, উৎপাদন সক্ষমতা, কয়লার মান এবং প্রয়োজনীয় পরিমাণ কয়লা সরবরাহের সামর্থ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তাঁদের মতে, শুধু একটি সমঝোতা স্মারককে কয়লার উৎস ও সরবরাহ সক্ষমতার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট খনি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে তথ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য খনি মালিকের অফিসিয়াল ও অনুমোদিত ই-মেইল বা যোগাযোগের মাধ্যমে নথিগুলো যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

কারণ, নির্বাচিত কোনো সরবরাহকারী চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কয়লা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এস এম জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তা দরপত্রের স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে জাহিদ হাসানের ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং এ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দরপত্রের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে তাঁর নিজ জেলা নওগাঁয় নদীর পাড়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও স্বাধীনভাবে সম্পদ বিবরণী, মালিকানা-সংক্রান্ত নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

৮০ লাখ মেট্রিক টন কয়লার এই দরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিটি দরদাতার কারিগরি, আর্থিক ও লজিস্টিক সক্ষমতা একই মানদণ্ডে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করা উচিত।

একই সঙ্গে প্রতিটি মাইন এমওইউয়ের সত্যতা সংশ্লিষ্ট খনি মালিক বা অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরাসরি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। কয়লার উৎপাদন সক্ষমতা, মান, সরবরাহের পরিমাণ এবং চুক্তির বৈধতাও যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে দরপত্রের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা এবং প্রয়োজন হলে নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের দাবি উঠেছে। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নেরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ, বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন, কয়লার নির্ভরযোগ্য সরবরাহ এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। তাই কয়লা সরবরাহকারী নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব নয়, যাচাইযোগ্য নথি, প্রমাণিত সক্ষমতা এবং স্বচ্ছ প্রতিযোগিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews