এইচ এম জাকিরঃ বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এমনটি দাবি করেন জেলা ছাত্রদল সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা খন্দকার আল আমিন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি ছাত্রদল ছেড়ে ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দায়িত্বে থাকাকালীন ২০২২ইং সালের ৩১জুলাই তৈল, গ্যাস ও নিত্য ণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসুচির অংশ হিসাবে ভোলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালিন অবস্থায় ভোলা জেলা বিএন পি অফিসের সামনে হঠাৎ করে ফ্যাসিস্ট সরকারের অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্য তৎকালীন সদর থানার ওসি (তদন্ত) আরমানের নেতৃত্বে আমাদের শান্তিপুর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে অরক্ষিত ভাবে হামলা ও মুহুর্মুহু গুলি, টিয়ার সেল নিক্ষেপ করেন।
এতে করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলে মারা যায়। এবং পুলিশের গুলিতে জেলা দাত্রদল সভাপতি মারাত্মক ভাবে অহত হন। জরুরী ভিত্তিতে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকার কমফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ অগস্ট ২০২২ইং তারিখে তিনি মারা যান। উক্ত ঘটনায় আমিসহ বিএনপি ও অংঙ্গ সংগঠনের দুই শতাধিক নেতাকর্মী পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।
উপরোক্ত ঘটনায় আমার মাথা, ঘাড় ও পিঠের বিভিন্ন অংশে এখনো গুলির অসংখ্য স্প্লিন্টার আমার শরীরে বিদ্যমান আছে। ওই সময় পুলিশি গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয়ে সঠিক চিকিৎসা করতে না পারার কারণে শরীর ও মাথায় গুলির স্প্রিন্টারের যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
উক্ত ঘটনায় নিহতেদের পরিবারের পক্ষ থেকে ওসি আরমানসহ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যা মামলা দুইটিকে মিথ্যা প্রমান করার জন্য পরিকল্পিতভাবে উল্টো ভোলা থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম বাদী হয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি পুলিশ অ্যাসোল্ট ও একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা দু’টি তদন্ত না করেই পুলিশের দায়ের করা মামলা দুটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়ে ভোলা জজ আদালতে বিএনপির ৭১জন নেতাকর্মী স্থায়ী জামিন প্রার্থনা করি। আদালত ৭০ জনকে জামিন দিলেও একমাত্র আমাকে জামিন না মঞ্জুর করে জেলে পাঠায়। পরবর্তীতে আমাকে রিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতন করে মামলায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আমাকে নির্যাতন করার কারাগারেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে ডান্ডাবেরি পড়িয়ে আমাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে সাময়িক চিকিৎসা দেয়া হয়। উক্ত মামলায় তিন মাস কারাভোগ করার পর ভোলা জজ আদালত থেকে জামিন প্রাপ্ত হই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের এক বছর অতিবাহিত হলেও পুলিশের দায়ের করা মিথ্যা মামলা দুইটির বোঝা কাঁধে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। পুলিশের বিরুদ্ধে নিহতদের পরিবারের দায়ের করা মামলা থেকে পুলিশ সদস্যদের বাঁচাতে আমাকে পুলিশের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে চার্জশিট দেয়ার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। তাছাড়া পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিম নিহতের ঘটনায় আদৌ কার্যত কোনো বিচার হয়নি। ওই হত্যার ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এখনো কোনোপ্রকার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অতি দ্রুত নুরে আলম ও রহিম হত্যার বিচার দাবী করেন ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাবেক এ সভাপতি। পাশা তৎকালীন পুলিশ কর্তৃক তাকে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীও করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।