
মোঃ আইয়ুবআলী, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় লোকালয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ডুবে গেছে চরাঞ্চলের একমাত্র যোগাযোগের পাকা সড়ক। এতে বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশিফতেপুর, দাদপুর, চকরাজাপুর ও কালিদাসখালীসহ পদ্মার গর্ভে থাকা ১৫টি চরের বাসিন্দারা চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার সকালে চকরাজাপুর-খয়েরহাট খেয়াঘাট সড়কের মাঝামাঝি এলাকায় পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে তীব্র বেগে পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মায় পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যে চকরাজাপুর-খয়েরহাট সড়কের বেশ কিছু অংশ তলিয়ে কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমেছে। ঝুঁকি নিয়েই চরাঞ্চলের মানুষকে এই পানির ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, রাস্তার ওপর হাঁটুসমান পানি বয়ে গিয়ে এখন লোকালয়ে ঢুকছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রকৃতির সাথে লড়াই করে টিকে থাকা এসব চরের মানুষের আশঙ্কা—পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়বে।চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডি এম মনোয়ার হোসেন বাবলু দেওয়ান বলেন, “চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের অধিকাংশ মানুষই খেটে খাওয়া ও ভূমিহীন। প্রতিবছর বর্ষায় পানি বাড়লেই এখানে ভাঙন ও প্লাবনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত কয়েক বছরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে সহস্রাধিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও বিজিবি ক্যাম্পসহ হাজার হাজার বিঘা জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।”পদ্মার পানি আরো বাড়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক সংস্কার এবং ১৫টি চরের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় ও সার্বিক নিরাপত্তায় অবিলম্বে সরকারি ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নদীপাড়ের মানুষ।