
দৌলতখান প্রতিনিধিঃ ভোলার দৌলতখান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেরিবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে মজুত রাখা পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন তেলের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৭টি তেলের গোডাউন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করেই একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যে তা আশপাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক কোটি টাকার তেল ও অন্যান্য মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন সংগ্রহ করে এসব গোডাউনে মজুত রাখা হতো। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হতো। এলাকাবাসীর দাবি, আবাসিক এলাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাসের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে এসব দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কোনো বৈধ লাইসেন্সও নেই বলে অভিযোগ করেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেল ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিনের গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত পাশের আরও ৬টি তেলের গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সবকয়টি গোডাউন আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মতিন খান এবং দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
দৌলতখান ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান জানান, অবৈধ তেলের গোডাউন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে, আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ মজুত রাখার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা অবৈধ তেল ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।