শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মনপুরায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে ড্রেজার ও বাল্কহেডসহ ৫ জন আটক Responsive AI Companion in English | Engage in Conversation at Musebix.org ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬২টি জিপিএ-৫, সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ৪৭টি জিপিএ-৫, জেলায় পাশের হার ৫৩.৭১ শতাংশ ভোলায় কোস্টগার্ডের অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক ভোলায় মিথ্যা অপবাদের বিচার দাবিতে মানববন্ধন বিক্ষোভ ভোলায় স্বৈরাচারমুক্ত দিবস উদযাপনে ছাত্র-জনতার আনন্দ মিছিল ভোলায় নৌযান শুমারি-২০২৬ উপলক্ষে অংশীজনদের অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে ভোলায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত চরফ্যাশনে খাল পুঃনখনন শেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ কোটি ২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন ইউএনও ভোলার চরফ্যাশনে পান থেকে চুন খসলেই চটে ওঠা মানুষটি চাঁদাবাজি মামলায় কারাগারে

ভোলায় প্রায় ৩ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল, বাদ পড়েনি দুর্গম চরের শিশুরাও

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

নাজমুন নাহারঃ শিশুদের চোখের দৃষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নানা উপকারে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদেরকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল। উপকূলীয় জেলা ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলসহ জেলার সর্বত্র সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় এই ক্যাম্পেইন। জেলার ৭ উপজেলা সহ দুর্গম চর অঞ্চল গুলোর প্রায় ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। বিশেষ মোবাইল টিমের মাধ্যমে দুর্গম চরাঞ্চলের শিশুদের পাশাপাশি ৩৩৩ জন প্রতিবন্ধী শিশুকেও ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলা ও তিনটি পৌর এলাকায় একযোগে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ।

এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩৪ হাজার ৫৫৬ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৬ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভোলার ৩০টি ছোট-বড় দুর্গম চরে বিশেষ মোবাইল টিম কাজ করেছে। যেসব শিশু প্রথম দিনে ক্যাম্পেইনের আওতায় আসতে পারেনি, তাদের খুঁজে বের করে ক্যাপসুল খাওয়াতে সোমবারও মোবাইল টিম কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, “কোনো শিশুই যেন এ কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে লক্ষ্যেই নির্ধারিত কেন্দ্রের পাশাপাশি নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চলেও বিশেষ মোবাইল টিম কাজ করছে।” তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কেন্দ্রেই শিশুকে খাওয়াতে হবে; এটি বাড়িতে নিয়ে খাওয়ানোর সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পেইনের জন্য ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ৪২ হাজার ৫০০টি নীল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ২ লাখ ৭৫ হাজার লাল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বরাদ্দ ছিল। প্রয়োজন অনুযায়ী অধিকাংশ ক্যাপসুল ব্যবহার করা হয়েছে।

জেলার ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন ও মনপুরা উপজেলাসহ ভোলা, লালমোহন ও চরফ্যাশন পৌর এলাকার মোট ১ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৬১৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০৮ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্যারামেডিকরাও কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। বিশেষ করে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর প্যারামেডিকরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা প্রতিরোধ, অপুষ্টিজনিত জটিলতা হ্রাস এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নির্ধারিত বয়সের প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কোনো শিশুকে খালি পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। শিশুকে মায়ের দুধ বা অন্য কোনো খাবার খাওয়ানোর পর ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, দুর্গম চরাঞ্চল পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে জেলার প্রতিটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews