নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভোলা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা গেছে এক মানবিক ও সহানুভূতিশীল চিত্র। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। যারা হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা, তথ্য প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে।
শনিবার সকাল থেকেই ভোলা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের দুই পাশে খোলা হয়েছে দশ টিরও বেশি হেল্প ডেক্স। এর মাধ্যমে দূর দূরান্ত থেকে আশা পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্র শক্তি, ছাত্র সমাজ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন। তাদের এই উদ্যোগে পরীক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হয়েছে, তেমনি স্বস্তি পেয়েছেন অভিভাবকরাও।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্র সংগঠনগুলোর পাশাপাশি ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে আলাদাভাবে হেল্প ডেস্ক পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের ব্যক্তিগত সামগ্রী যেমন মোবাইল, ব্যাগ ইত্যাদি নিরাপদে সংরক্ষণে ছাত্রীদের মধ্যেই রাখার ব্যবস্থা করা হয়, যা তাদের জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক ও গ্রহণযোগ্য।
এদিকে আগত শিক্ষার্থীরা জানান, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের হেল্প ডেস্কের সহযোগিতায় তারা খুব সহজেই নিজেদের রুম নম্বর ও সিট নম্বর খুঁজে পাচ্ছেন। এতে করে ভর্তি পরীক্ষার আগে তাদের উদ্বেগ অনেকটাই কমে গেছে। শুধু তাই নয়, তীব্র রোদে ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঠান্ডা পানি ও স্যালাইন সরবরাহ করা হয়, যা তাদেরকে দ্রুত সতেজ করে তোলে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কলম, ছোট বই ও চকলেট উপহার দেওয়ার উদ্যোগটি প্রশংসার দাবি রাখে। এমন উদ্যোগ শুধু সহায়তাই নয়, শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক অনুভূতিও সৃষ্টি করেছে। অনেকেই আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোও এ ধরনের উপহার ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রমে নিজেদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করবে।
ভোলা সরকারি কলেজের ছাত্রী মারিয়া বিনতে মনির বলেন, “দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রী সংস্থা হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে। বর্তমানে তাদের দেখাদেখি অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য খুবই উপকারী এবং সময়োপযোগী। আমি মনে করি, দেশের সব ছাত্র সংগঠনের মধ্যে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত। এতে মন্দ কাজ থেকে সরে এসে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”
এদিকে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই ছাত্র সংগঠনগুলোর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে ভর্তি পরীক্ষার পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক ও মানবিক হবে।