শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভোলার গরিবের দুবাইয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ দুই বন্ধুর মধ্যে রাকিবের মরদেহ পাওয়া গেছে নোয়াখালীর রামগতি চরে Cómo empezar bien con casinos online seguros chile — errores habituales গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় হাইকোর্টের রায়, দিতে হবে প্রায় ৬৬৬ কোটি বিশেষ ছাড়ে গাড়ি-মোটরসাইকেল কেনাবেচার সুযোগ ‘সুপার সেল কার বাজারে’ বিদ্যুৎ সংকটে বিপাকে সরকার, প্রশ্ন উঠেছে আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে Online Stock Trading in Kenya: A Guide for Beginner Investors ভোলার গরীবের দুবাইর বালু মাঠে ঘুরতে গিয়ে নদীর পাড় ধসে দুই বন্ধু নিখোঁজ বসুন্ধরা মেডিকেল সিটিতে শেয়ার মেলা, থাকছে সহজ কিস্তি ও বিশেষ ছাড় পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ: সমস্যার চেয়ে বড় হয়ে উঠছে দায় চাপানোর রাজনীতি জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন কৌশল

ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত অর্ধশত ঘর, ঈদের আগে চরম বিপাকে উপকূলবাসী

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৪ বার পড়া হয়েছে
ইসরাফিল, চরফ্যাশনঃ ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত অর্ধশত ঘরবাড়ি সহ বহু গাছপালা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর রাতের দিকে চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঈদের আগে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন গরীব অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়া চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।
গভীর রাতে দক্ষিণ দিক থেকে বয়ে আসা আকস্মিক এই ঝড় উপজেলার অন্তত ১০টি এলাকায় আঘাত হানে। শুরুতে বাতাসের গতি কম থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এর সাথে শিলাবৃষ্টি আরো বিপর্যস্ত করে তোলে সেখানকার মানুষের জীবন। প্রবল বাতাসে টিনের চালা উড়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে।
সাগর মোহনার ঢালচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ জানান, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে সেহরির আগেই ঝড়ে তাঁর ঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, “ঈদের মাত্র তিন দিন আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।” তাঁর মতো আরও অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের মধ্যে মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার, মো. গিয়াস উদ্দিনসহ বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক পরিবার রাতের আঁধারে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়ন, যেখানে অধিকাংশ মানুষ কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রীও নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যমতে, ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ অন্তত ১০টি এলাকায় প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হাওলাদার বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। ঝড়ের সময় প্রবল বাতাসে চর কচ্চপিয়া বাজারে আমার দোকানঘরের চালা উড়ে গেছে।”
ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও বন কর্মকর্তা মুইনুল জানান, হঠাৎ আঘাত হানা এই ঝড়ে ঢালচরেই প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হক বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”
এদিকে ঈদের আগমুহূর্তে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews