গভীর রাতে দক্ষিণ দিক থেকে বয়ে আসা আকস্মিক এই ঝড় উপজেলার অন্তত ১০টি এলাকায় আঘাত হানে। শুরুতে বাতাসের গতি কম থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এর সাথে শিলাবৃষ্টি আরো বিপর্যস্ত করে তোলে সেখানকার মানুষের জীবন। প্রবল বাতাসে টিনের চালা উড়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে।
সাগর মোহনার ঢালচর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ জানান, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তবে সেহরির আগেই ঝড়ে তাঁর ঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, “ঈদের মাত্র তিন দিন আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।” তাঁর মতো আরও অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের মধ্যে মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার, মো. গিয়াস উদ্দিনসহ বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক পরিবার রাতের আঁধারে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়ন, যেখানে অধিকাংশ মানুষ কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রীও নষ্ট হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যমতে, ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ অন্তত ১০টি এলাকায় প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম হাওলাদার বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। ঝড়ের সময় প্রবল বাতাসে চর কচ্চপিয়া বাজারে আমার দোকানঘরের চালা উড়ে গেছে।”
ঢালচর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও বন কর্মকর্তা মুইনুল জানান, হঠাৎ আঘাত হানা এই ঝড়ে ঢালচরেই প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হক বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”
এদিকে ঈদের আগমুহূর্তে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।