বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মহিউদ্দিন উপজেলার হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলামত মাঝির ছেলে। বাচ্চু হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও মো.রফিকের ছেলে।
এর আগে সকালে ভুক্তভোগী শিশুর দাদা বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনকে প্রধান আসামি ও বাচ্চুকে দ্বিতীয় নম্বর আসামি করে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ভুক্তভোগী শিশু উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৬ জুলাই দুপুরে স্কুল ছুটির পর অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো সেও বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন তাকে কৌশলে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি পরিবারকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকি-ধমকি দিয়ে হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
এরপর শিশুটি বাড়ি ফিরলে তার স্বজনরা অস্বাভাবিক হাঁটাচলা দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে ধর্ষণ করেছে। স্বজনরা প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুকে জানালে তিনি সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন এবং একপর্যায়ে গতকাল রাতে তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগীর স্বজনরা এতে অস্বীকৃতি জানালে তাদেরকে মারধর করেন বাচ্চু মেম্বার ও তার লোকজন।
ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থী জানায়, স্কুল ছুটির পর মহিউদ্দিন স্যার তৃতীয় তলায় তাকে ডেকে নিয়ে খারাপ কাজ করে। সে চিৎকার দেওয়ার সময় স্যারে তার মুখ চেপে ধরে। পরে তাকে বাড়িতে চলে যেতে বলে এবং তার হাতে ২০ টাকা দিয়ে বলে যদি কাউকে এ ঘটনা বলিস তাহলে তোকে মেরে ফেলবো।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মহিউদ্দিন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি। অন্যদিকে বাচ্চু মামলার সহযোগী আসামি। সে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন চেষ্টা করছিল। বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও এ মামলার পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।