
মনপুরা প্রতিনিধিঃ ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নির্মাণাধীন টেকসই উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্পের ওপর পাকা কার্পেটিং রাস্তা এবং সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই দাবি আদায় না হলে মানববন্ধনসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও (আধা-সরকারি) লেটার দিয়েছেন ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন। তাঁর এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রেক্ষিতে রোববার সকাল ১০টায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাঁধের ওপর পাকা রাস্তা, সিসি ব্লক ও সোলার লাইট স্থাপনের যৌক্তিকতা যাচাইয়ের জন্য সরাসরি প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে একনেক সভায় ভোলা জেলার মুজিবনগর ও মনপুরায় উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে, প্রকল্পের প্রাথমিক আলোচনায় বাঁধের ওপর প্রশস্ত সড়ক, আলোকসজ্জা, কার্পেটিং এবং নদীপাড়ে সিসি ব্লক স্থাপনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকলেও বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন কাজের মধ্যে এসব সুবিধার অনেকগুলোই নেই। এতে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মনপুরা উপকূলের বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা ডা. কামাল উদ্দিন ও আব্দুর রহমান জানান, মনপুরায় প্রায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি বেড়িবাঁধের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ব্লক, কার্পেটিং ও আলোকসজ্জা ছাড়া প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। এসব মৌলিক দাবি উপেক্ষা করা হলে তারা পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
জনগণের চলাচলের সুবিধা ও সরকারের উন্নয়ন যাতে বিফলে না যায়, সেজন্য সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রবল জোয়ার-ভাটা ও নদীর ঢেউয়ের আঘাত থেকে বাঁধকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সিসি ব্লক দিয়ে ঢাল সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে জনগণের যাতায়াত নিরাপদ করতে পুরো বাঁধের ওপর পাকা রাস্তা নির্মাণ প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়িত হলে মনপুরার উপকূলীয় বাঁধটি একটি আধুনিক ‘মেরিন ড্রাইভ’-এ রূপ নিতে পারে, যা পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বীপাঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এছাড়া দুর্যোগকালীন জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাঁধজুড়ে সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে পাউবো ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা জানান, এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের টিম নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। বেড়িবাঁধ প্রকল্পে পাকা রাস্তা ও সোলার লাইট স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় দ্রুত অনুমোদন দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।