আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েক বছর যাবত সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে ওই ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুম এলে ওই এলাকায় ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সেখানে কিছুটা বালির বস্তা জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ী ভাবে কাজ করা হয়। কিন্তু সেই কাজ এক দুই মাসের মধ্যেই নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। তাতে করে ক্রমাগত ভাঙ্গনের মুখে এরই মধ্যে ওই ইউনিয়নের দেড় কিলোমিটার এলাকা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বলেন, ভাঙ্গনের তীব্রতা এতোটাই বেশি যে সেখানকার বেড়িবাঁধের সাথেই নদী চলে আসছে। আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করতে শুরু করবে ওই ইউনিয়নের মানুষের বাসা বাড়িসহ ভোলার মূল ভূখণ্ডে।
একই ভাবে ইউনিয়নটির জনপ্রতিনিধি নূর হোসেন বলেন, প্রতিবছরে বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কিছু কাজ করা হয়। কিন্তু সেই কাজ কখনোই স্থায়ী হয় না। সামান্য জিও ব্যাগ বালির বস্তা ফেলে তারা যেই দায়সারা কাজ করছেন তা শুধুমাত্র ঠিকাদারদের পেট ভরানো ছাড়া আর কিছুই নয়। এক কথায় বলতে গেলে অর্থলোপাত ছাড়া সেখানে অগ্রগতি হয়নি। তাই কয়েকদিনের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে শিবপুর সহ পুরো ভোলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি সহ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া আন্দোলনকারীরা।
ইউনিয়নের বাসিন্দা মিলন, শফিকুল, জব্বার, খাইরুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ আরো অসংখ্য মানুষ বলেন, এর আগেও এ ধরনের আন্দোলনের মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থায়ীবাধ নির্মাণের একাধিক বার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কোন আশ্বাসই আলোর মুখ আদৌ পর্যন্ত দেখেনি। তাই এবার কোন ধরনের মিথ্যা আশ্বাস তাদেরকে দমাতে পারবে না বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এমনকি কয়েক দিনের মধ্যে সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ীবাঁধ নির্মাণ না করা হলে আগামীতে তারা এর চেয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়ারও ঘোষণা দেন।
সেখান থেকে আন্দোলনকারীরা ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রসাশকের ডাঃ শামীম ইসলাম এর হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বলছেন, অত্র এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গনের কবল থেকে শিবপুর সহ পুরো ভোলাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়া উদ্দিন আরিফ। এছাড়াও ভাঙ্গন তীব্রতা কমাতে অস্থায়ীভাবে সেখানে জিও ব্যাগ ও বালির বস্তা ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ বর্ষা মৌসুমেই সিসি ব্লকের মাধ্যমে ভাঙ্গন কবলিত পুরো এলাকায় স্থায়ীবাঁধ নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।