
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোলা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যকরী কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, সদস্যদের বৈধতা যাচাই এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই কমিটি থেকে সরে দাঁড়ালেন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনতাসির আলম চৌধুরী।
১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, সম্প্রতি গঠিত কার্যকরী কমিটিতে তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, সদস্যপদের বৈধতা এবং বাস-মিনিবাস মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে মুনতাসির আলম চৌধুরী বলেন, একটি সংগঠনের কার্যকরী কমিটি কীভাবে, কোন সভার সিদ্ধান্তে এবং কার অনুমোদনে গঠিত হয়েছে এ বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কমিটির সদস্যদের সদস্যপদ, বাস বা মিনিবাসের বৈধ মালিকানা, রেজিস্ট্রেশন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করাও জরুরি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন কার্যকরী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত কয়েকজনের বাস-মিনিবাস মালিকানা ও সদস্যপদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় যাচাই না করে কমিটি অনুমোদন করা হলে সংগঠনের কার্যক্রমে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি কার্যকরী কমিটি গঠনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, সভার কার্যবিবরণী, সদস্যদের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানান। পাশাপাশি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন বা মনোনয়নের প্রক্রিয়াও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
মুনতাসির আলম চৌধুরী বলেন, তাঁর আপত্তি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং সংগঠনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বৈধতা নিশ্চিত করার স্বার্থেই তিনি এসব প্রশ্ন তুলেছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, উদ্ভূত বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের অনুরোধ জানান।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ভোলা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।