
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভোলা সরকারি কলেজের এক শিক্ষকের সাথে একই কলেজের এক নারী শিক্ষার্থীর অনৈতিক সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ঘটনার সার্বিক প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল।
এছাড়াও পাওয়া গেছে, ঘটনার দিন অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শিহাব নামের একটি একাউন্টে ১ লক্ষ টাকা ফান্ড ট্রান্সফারের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কলেজ প্রশাসন জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শুভ্রত দাসের সাথে একই বিভাগের ৪র্থ বর্ষের এক ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রেণীকক্ষের কিছু বিতর্কিত কথপোকথনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন কলেজ প্রশাসন।
এরপর তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সংশ্লিষ্ট শ্রেণীকক্ষের প্রমাণাদি ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। সেই ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিষয়টি নিয়ে আর না বাড়াবাড়ির অনুরোধ করতে শোনা যায়।
এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক শুভ্রত দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেছিলেন, “এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসন অবহিত আছে, তাদের কাছেই জানতে চান।”
এদিকে ঘটনার পরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ সর্ব মহলে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেন কলেজ প্রশাসন। এমনকি এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অবশেষে এ ঘটনায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কলেজ প্রশাসন বিষয়টিকে আমলে নিয়ে গঠন করেন ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
এ ব্যাপারে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জামাল হোসেন জানান, তদন্ত সম্পন্ন করে গঠিত কমিটির সুপারিশসহ যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।