আজ দেশজুড়ে, পড়ালেখা, রাজনীতি

সংসদে গণতন্ত্রের কথা বলে আর ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রকে হত্যা করে, জিএস ফরহাদ

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ডাকসু’র জিএস এসএম ফরহাদ বলেছেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে গণতন্ত্রের কথা বলে আর ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। ৯০ এর ডাকসুর পরে তারা ক্ষমতায় তারা মন্ত্রী তারে ডাকসু নির্বাচনকে বন্ধ করে দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে একইভাবে তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে সংসদে বলে গণতন্ত্রর কথা আর ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের আয়োজনে কলেজের একাদশ শ্রেণি ও অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফরহাদ বলেছেন, সরকার ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পরে তারা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা গণতন্ত্রের বিজয়ের মধ্য দিয়ে এসেছি। গণতন্ত্রকে অটুট রাখতে চাই, এরকম বক্তব্য যারা দেন কিন্তু বিপরীতে আমরা লক্ষ্য করেছি, একই ঘটনা সেটা ১৯৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে পুনরাবৃত্তি হয়েছিল যখন বেগম খালেদা জিয়া সংসদে গিয়েছেন। তিনি বলেছেন গণতন্ত্র অটুট রাখতে চান।

ডাকসু জিএস বলেন, ১৯৯০ এর পরে যে ডাকসু নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনে জয়ী হয় ছাত্রদল। তারপর ১৯৯১ থেকে ৯৬ অর্থাৎ বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার আগ পর্যন্ত তারা ক্ষমতায়; তাদের ভিসি, তাদের দলের সকল লোকেরা সেখানে ছিল। ডাকসু নির্বাচন বন্ধ করে দিয়ে এক প্রকার ক্যাম্পাসে গণরুম-গেস্টরুমসহ যা যা দরকার তারা তা করেছেন। অর্থাৎ ক্যাম্পাস গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা বিএনপি-ছাত্রদলের চিরায়িত ঐতিহ্য। যেমনটা দেখেছি ভোলা সরকারি কলেজে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের আজকের কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল ভোলা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে। কী ঘটলো-ছাত্রশিবিরের প্রোগ্রামকে বানচাল করার জন্য তাদের যা যা করা দরকার, যতভাবে রাজনৈতিক নষ্টামি করা যায়, যতভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে উসকে দেওয়া যায়, সবকিছু তারা করেছে।

ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ আরও বলেন, মুশকিল হচ্ছে ছাত্রদল এগুলো করে শিক্ষার্থীদের জন্য প্লাটফর্ম পরিণত না হয়ে শিক্ষার্থী বিচ্ছেদ একটা সংগঠনে পরিণত হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি, প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের ডেমোক্র্যাটিক জায়গাটা নষ্ট করে ফেলছে, এটা খুবই দুঃখজনক। কষ্টের বিষয় হচ্ছে- ছাত্রশিবির ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের কল্যাণার্থে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ক্যাম্পাসে করতে পারেনি; একটা সন্ত্রাসী অ্যাপ্রোচের কারণে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে যেমনটা বলেন গণতন্ত্রের কথা, আল্লাহর অস্তে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্রকে হত্যার যে রাজনীতি আপনারা শুরু করেছেন এটা বন্ধ করেন। এটা বন্ধ না করলে এ তরুণরা আপনাদেরকে আগামীতে মোনাফেক হিসেবে চিনবে- যে সংসদে মোনাফেক শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের কথা বলে ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র, ভোট ও কথা বলার অধিকারকে হত্যা করে। আমরা এ দ্বিচারিতা তাদের কাছ থেকে চাই না। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নানান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন তিনি।

এসময় ‘নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ অনুষ্ঠানে ভোলা সরকারি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আল আমিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক কামরুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট পারভেজ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে শত শত নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীনদের বরণ করতে তাদের হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেন একটি করে রজনীগন্ধার স্টিক ও পবিত্র কোরআন শরিফ।