আজ দেশজুড়ে

অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা ৭ শতাধিক চক্ষু রোগী পেলেন বিনা মূল্যে চিকিৎসা

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:৪১ অপরাহ্ণ

শিমুল চৌধুরীঃ ভোলার সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পে সেবা পেয়েছেন সাত শতাধিক নারী-পুরুষ। তাঁদের মধ্যে ১১১ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়েছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনে এ কার্যক্রম চলে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের উদ্যোগে ক্যাম্পটির আয়োজন করা হয়। চিকিৎসাসেবা দিয়ে সহযোগিতা করে চোখের আলো রেটিনা গ্লুকোমা হাসপাতাল অ্যান্ড ফ্যাকো সেন্টার।

ভোলা জেলা ছাত্র সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ইংরোজ আলম টিমনের তত্ত্বাবধানে আলীনগর ইউনিয়ন বিজেপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো এ আয়োজন করে।

ক্যাম্পে বিনা মূল্যে চোখ পরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি নির্ণয়, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ দেওয়া হয়। সকাল থেকেই দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা এসে চিকিৎসা নেন। তাঁদের মধ্যে বয়স্ক মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি মো. সালাউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া ও কাছের জিনিস দেখতে সমস্যায় ভুগছেন। খরচের কথা ভেবে এত দিন চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেননি। ক্যাম্পে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ পেয়ে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

একই এলাকার কোহিনূর বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে চোখ দিয়ে পানি পড়ে, চুলকায় এবং কম দেখি। বিনা মূল্যে চিকিৎসক দেখাতে পেরে আমি খুশি।’

চক্ষু চিকিৎসক ও সার্জন মো. শাকিব হোসাইন বলেন, ‘চোখের সমস্যা অবহেলা করা উচিত নয়। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ক্যাম্পে ছানি ছাড়াও চোখে মাংস বৃদ্ধি, পানি পড়া, নেত্রনালির সমস্যা ও অ্যালার্জির রোগী পাওয়া গেছে। অনেককে চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

বিজেপির ভোলা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর মো. নুরনবী বলেন, ‘দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতেই তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এ উদ্যোগ নিয়েছেন।’

ক্যাম্পের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইংরোজ আলম টিমন বলেন, ‘এর আগেও সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে বিনা মূল্যে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ার। সামনের দিনগুলোতেও একইভাবে সমাজের অসহায় ও নিম্নয়ের মানুষদেরকে আন্দালিব রহমান পার্থ ভাইয়ের উদ্যোগে একইভাবে দেয়া হবে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা।