আজ দেশজুড়ে, প্রবন্ধ, শিল্প-সাহিত্য

বরেণ্য শিশুসাহিত্যিক ও ছড়াকার আখতার হুসেন আর নেই​

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ

মোঃ আইয়ুব আলী, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি: মজার মজার ছড়া, মায়াময় গল্প আর উদ্দীপনাময় গানে কয়েক প্রজন্মের শিশুদের শৈশবকে আনন্দে ভরিয়ে দেওয়া দেশের বরেণ্য শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতার হুসেন আর নেই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

​দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত এই গুণী সাহিত্যিক সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে গত শুক্রবার থেকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাঁর দুই ছেলে পান্থ ও প্রমিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।​

জীবন ও সাহিত্যকর্ম:আখতার হুসেন ১৯৪৫ সালের ১ নভেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রায় ছয় দশক ধরে তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য ছড়া, গল্প, গানসহ প্রচুর সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর লেখায় আনন্দ-কৌতুকের পাশাপাশি দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রাধান্য পেয়েছে।

শিশুদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় তাঁর ছড়া ‘হ্যাঁরে খবরটা কী উড়ো’সহ অসংখ্য সৃষ্টি বাংলা শিশুসাহিত্যে এক আলাদা জগৎ তৈরি করেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর কলম হয়ে উঠেছিল অনন্য অস্ত্র। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অজিত রায়ের সুর ও তিমির নন্দীর কণ্ঠে ‘স্বাধীন স্বাধীন দিকে দিকে জাগছে বাঙালিরা/ আজ রুখবে তাদের কারা’ গানটির রচয়িতা ছিলেন তিনি।​সংস্কৃতি অঙ্গনে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও খেলাঘরের দলীয় সংগীতের রচয়িতা আখতার হুসেন দীর্ঘদিন এই সংগঠনগুলোর সাথে যুক্ত ছিলেন।​পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দৈনিক সংবাদ, দৈনিক জনকণ্ঠ ও প্রথম আলোসহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় কাজ করেছেন। ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রথমা প্রকাশনের পাণ্ডুলিপি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।​

সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ভাষাশহীদ আবদুল জব্বার স্মৃতি পদক, মুক্তিযোদ্ধা কলম সৈনিক সম্মাননা, মনিরউদ্দীন ইউসুফ সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার ও বজলুর রহমান স্মৃতিপদক সহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত হন। তিনি বাংলা একাডেমির একজন ফেলো ছিলেন।​

শেষ বিদায় ও দাফন:পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব তেজগাঁওয়ের রেলওয়ে জামে মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে। এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ সিরাজগঞ্জে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।